Translate

Massage for you

Allah is my lord

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬

নাস্তিকদের বিরুদ্ধে চমৎকার গান

নাস্তিকদের বিরুদ্ধে জালাময়ি গান শুনতে নিচের লিংকে জান-ক্লিক করুন

ইসলামীক যত গান এই ঠিকানায়

শেরপুরের কৃতি সন্তান খাঁন মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের লেখা নতুন  ইসলামী হামদ-নাত গজল শুনতে ভিজিট করুন ক্লিক

বেফাকের ফলাফল

আগামী 29 শে জুন/2016 দুপুর 12.00 মি:  বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা বোর্ড ( বেফাক) এর 39 তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষরা ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
 শিক্ষার্থীদের আলাদা মার্কশিট পাওয়া যাবে এই ঠিকানায়- ক্লিক করুন
মাদ্রাসাওয়ারী ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন
মেধা তালিকা জানতে  ক্লিক করুন

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬

তাওহিদ কাকে বলে?

ভূমিকা: মহাকাশে অবস্থিত অসংখ্যা  জ্যোতিষ্কের মধ্যে একটি জ্যোতিষ্ক গ্রহ।  আমাদের আবাস্থল এ পৃথিবী মহাকাশের একটি ক্ষুদ্র গ্রহ। এখানে প্রতিদিনই দেখা যায় একই সময়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে দিনের পর রাত, আবার রাতের পর দিন আসছে। ঠিক একইভাবে ঋতু পরিবর্তনে আসে শীত ও গ্রীষ্ম এবং ঋতু অনুযায়ী ফোটে নানা ফুল ও ফলে ফল-ফসল। কোনরকম হেরফের ছাড়া প্রকৃতিতে এ নিয়ম পালিত হওয়ার ঘুরচাকা একটা কথায় মনে করিয়ে দেয় যে, বিশ্ব নিয়ন্ত্রা এক ও অদ্বিতীয়।
আভিধানিক অর্থ: তাওহিদ শব্দটি আরবি। এটি মাসদার। ওয়াহিদ বা আহাদ শব্দ হতে উৎপন্ন। সুতরাং তাওহিদ শব্দের অর্থ এক করা, এক হওয়া, একক হওয়া। দ্বিতীয় না থাকা, একক বলে স্বীকার করা ইত্যাদি। তাওহিদ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ‘Monothism'
পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইসলামী চিন্তাবিদগণ বিভিন্নভাবে তাওহিদকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নিম্নে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংজ্ঞা উপস্থাপন করা হলো: 
সুফিবাদীদের মতে, “ বিশ্বজুড়ে আল্লাহর একত্বের উপলব্ধি হলো তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। “
দার্শনিকদের মতে, তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ হলো সত্তা ও গুণগত দিক দিয়ে আল্লাহর একত্ববাদ।”
কালামশাস্ত্রবিদগণ তাওহিদের সংজ্ঞায় বলেন, “ আল্লাহতায়ালা সত্তাগত দিক থেকে একক, এ বিশ্বাসের নামই তাওহিদ। “
আবুল হাসান আল আশআরীর মতে, “ তাওহিদ হলো এ ঘোষণা দেয়া যে, আল্লাহ একক এবং একমাত্র সত্তা।”

চলবে------------

যেসব কারণে রোযা না রাখার অনুমতি আছে

নিম্নোক্ত দশটি কারণে রোযা না রাখার অনুমতি আছে। 
1. সফর: সফরে থাকলে রোযা না রেখে পরে কাযা করার বিধান।
2. রোগ: রোগীরা পরে কাযা আদায় করতে পারবে।
3. গর্ভধারণ: এ অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে।
4. স্তন্যদান। যদি সন্তানের স্তন্য না পাবার আশঙ্খা থাকে তবে রোযা না রাখার অনুমতি আছ।
5. ক্ষুধা তৃষ্ণার প্রাবল্য: জীবন ওষ্ঠাগত হলে রোযা না রাখার অনুমতি আছে।
6. বার্ধক্য ও দুর্বলতা:  এ অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে।
7. জীবন নাশের ভয়: এ অবস্থায় রোযা না রাখার অনুতি আছে।
8. জেহাদের কারণে:
9. বেহুশ অবস্থায়:
10. মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে।
আরো জানতে ক্লিক করুন

সাওম বা রোযা

‘সাওম’ আরবী শব্দ। সাওম বা সিয়াম শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা, পুড়িয়ে দেওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনচার থেকে বিরত থাকাকে ‘সাওম’ বা রোযা বলা হয়।
ইহা এমন একটি মাস যে মাসে নাযিল হয়েছে সর্বশ্রেষ্ট গন্থ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ।
বস্তুত, রোযা রাখার রীতি সর্বযুগেই প্রচলিত ছিল। প্রথম নবী আদম আ: থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা: পর্যন্ত সকল নবী - রাসূলই রোযা পালন করেছেন। আল্লামা ইবনে কাসীর রহ: বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে তিন দিন রোযা রাখার বিধান ছিল। পরে  রোযা ফরজ হলে তা রহিত হয়ে যায়।
হযরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: মদীনায় আগমন করে দেখলেন যে, ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোযা পালন করে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কি ব্যাপার? তোমরা এ দিনে রোযা পালন কর কেন? তারা বলল, এটি অতি উত্তম দিন। এ দিনে আল্লাহ তায়ালা বনী িইসরাইলকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাই ‍মুসা আ: এ দিনে রোযা রাখতেন। এ কথা শুনে রাসূল সা: বলেন, আমি তোমাদের অপেক্ষা মুসা আ: এর অধিক নিকটবর্তী। তারপর তিনি এ দিন রোযা রাখেন এবং সকলকে রোযা রাখার নির্দেশ দেন। (শামী- 2য় খন্ড, পৃ: 95)
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় হযরত মুসা: আ:, হযরত ঈসা আ: এবং তাদের অনুসারীগণ রোযা পালন করতেন। তবে তাদের সাথে আমাদের রোযার পার্থক্য বিদ্যমান। (চলবে)


আশারা-ই- মুবাশ্শারা


মহান আল্লাহ পাক দশজন সম্মানিত সাহাবাকে দুনিয়াতেই বেহেশতের সুসংবাদ দান করেছেন। তাদেরকে বলা হয় আশারা-ই-মুবাশশারা। এ দশজন হলেন:
1. হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা:
2. হযরত ওমর রা:
3. হযরত আলী রা:
4. হযরত  উসমান রা:
5. হযরত যুবাই রা:
6. হযরত তালহা রা:
7. হযরত আবু উবাইদাহ রা:
8. হযরত আব্দুর রহমান বিন আওফ রা:
9. হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ রা:
10 হযরত সাঈদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস
উপরোক্ত দশজন সাহাবা তাঁদের জীবদ্দশাতেই বেহেশতের শুভ সংবাদ লাভ করেন।
more information

শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬

উষ্ঞতম ও শীতলতম


উস্ঞতম                    নাম
 উষ্ঞতম স্থান-                                     লালপুর (নাটোর)
উষ্ঞতম জেলা-                                     রাজশাহী
শীতলতম স্থান-                                      শ্রীমঙ্গল
শীতলতম জেলা-                                    সিলেট     

বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬

দারুল উলূম দেওবন্দ কখন কোথায় কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলঃ

 দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ
 ( কিন্তি ১)

মানুষের রাহনুামায়ীর জন্য সর্বশেষ ঐশী দিক নির্দেশনা হিসাবে অবর্তর্ণ হয়েছিল আল-কুরআন। রাসূল্লাহ সাঃ এর জীবন ধারায় তারই রূপায়ণ হয়েছিল যথার্থভাবে। আর সে আলোকেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন হযরত সাহাবায়ে কেরামের সুমহান জামা’আতকে। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষনা দিযে গেছেন যে, সত্য পন্থী, হক ও হক্কানিয়াতের অনুসারী, নাজাতপ্রাপ্ত জামা’আত হবে তারাই; যারা ঈমান ও আমল, ব্যক্তিক ও সামাজিক, দৈহিক ও আধ্যাত্মিক সকল ক্ষেত্রে “ মা’আনা আলাইহি ওয়া আসহাবী” অর্থাৎ আমি ও আমার সাহাবীরা যে পথে চলছে সেপথে নিজেদেরকে পরিচালিত করবে এবং সে পথকে দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করবে। ইসলামে সে জামা’আতই পরিচিতি লাভ করেছে “ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত” নামে।
হযরত সাহাবাযে কিরামের যুগ থেকে অদ্যাবধি এক জামা’আত কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে “ মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবী”র পথকে অনুসরণ করে আসছে। এই মহান ধারার উত্তরাধিকারী আইম্মা, মুজাদ্দেদীন, ফুকাহা, মুহাদ্দেসীন ও সুলাহায়ে উম্মত অত্যন্ত বিশ্বস্ততার  সাথে নিরলস সাধনা, সীমাহীন ত্যাগ ও কুবানীর মাধ্যমে এই দ্বীনের হেফাজত ও ইশা’আত করে গিয়েছেন। সকল প্রতিকূলতার মুখেও হক ও হক্কানিয়াতের পতাকাকে সমুন্নত রাখার জন্য তারা জীবন বাজী রেখে সংগ্রাম করে গেছেন। দারুল উলুম দেওবন্দ মূলতঃ সে ধারারই উত্তরাধিকারী।
ভারতে ইসলাম এসেছে দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর রা: এর যুগেই। সেই থেকে নিয়েই “ মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবী”র কেতনধারী এক জামা’আতের নিরলস প্রচেষ্টায় হিন্দু প্রধান ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হয়। মুসলিম শিক্ষা-সভ্যতা ও কৃষ্টি-কালচার এদেশের মানুষের নিজশ্ব সভ্যতা ও কৃষ্টি-কালচারে পরিণত হয়। এই সুদীর্ঘ পথে মুসলিম মনীষী ও উলামায়ে কিরামকে সমূহ প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে অনেক কণ্টকময় পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। মুকাবেলা করতে হয়েছে অনেকট জটিলতার। কখনো মনে হয়েছে যে, আর বুঝি সামলানো সম্ভব হবেনা। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনকে টিকিয়ে রাখার জন্য বারে বারেই তার নুসরতের দ্বার খুলে দিয়েছেন। রহমতের বারি সিঞ্চন করে সহজ করে তুলেছেন উম্মতে চলার পথ। 

মোগল সম্রাট আকবরের যুগে তার মূর্থতার সুযোগ নিয়ে হিন্দু ব্রাক্ষ্মণ্যবাদীরা যখন ক্ষমতা লোভী সম্রাটের ছত্রছায়ায় নিজেদের কুটিল চানক্য মূতিকে আড়াল করে হিন্দুয়ানী দর্শন উপাদানে গঠিত দ্বীনি ইলাহীর নামে নিঃশেষ করে দিতে চাইল ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলাম ও মুসলিম উম্মাকে, তখন সেই ধারারই উত্তরাধিকারী এক মর্দে মু’মিন আল্লাহর উপর পরম ভরসা নিয়ে বলিষ্ঠ ঈমানী চেতনায় এগিয়ে এলেন এবং ছিন্ন করে দিলেন তাদের সব ষড়যন্ত্রের জাল। ইতিহাস তাঁকে মুজাদ্দিদে আলফেসানীহিসাবে চিনে।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে ভোগবাদী বস্ততান্ত্রিক দর্শনের উপর ভিত্তি করে বাতিল যখন নিজেকে দাঁড় করাতে চাইল তখন এর মোকাবেলায় হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ রাহ: নববী সুন্নাহর আলোকে ইসলামের সামাজিক, আর্থিক ও নৈতিক সকল বিধি বিধানকে বিশ্লেষণ করে পেশ করলেন ইসলামী জীবন বোধ ও আন্দোলনের এক নতুন রূপরেখা এবং নব্য বাতিলকে রোখার কার্যকরী কর্মসূচী। সেই চেতনায় সমৃদ্ধ ‘মা’ আনা আলাইহি ওয়া আসহাবী’-

মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১৬

ঝড়ে পড়লো উজ্জ্বল নক্ষত্র, মাওলানা মোঃ নূরুল ইসলাম



শেরপুর তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ইল্মে দ্বীনের প্রচার-প্রসারে যে সব উলামায়ে কিরাম বিশেষ অবদান রাখেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন শেরপুর জামিয়া সিদ্দীকিয়ার (তেরাবাজার মাদ্রাসা) প্রতিষ্ঠাতা মুহ্তামিম হাফেজ মাওলানা মোঃ নূরুল ইসলাম (রহ.) যিনি এতদঞ্চলে বড় হুজুর নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৪৯ ঈসায়ী সনের আনুমানিক ০১ জানুয়ারি মোতাবেক ১৩৫৬ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে তদানিন্তন নেত্রকোনা মহকুমার পূর্বধলা থানার ধুবারুহী গ্রামে সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাতার নাম ছাহেরা বেগম। পিতা মরহুম আবদুল জব্বার সহজ, সরল, শিক্ষানুরাগী ও ধর্মপরায়ণ লোক ছিলেন এবং তিনি ১৯৬০ সনে ইন্তিকাল করেন।
হাফেজ নূরুল ইসলাম (রহ.) শৈশব হতে লেখাপড়ার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সমাপ্ত করে পূর্বধলা থানাধীন বালুচরা ফুরকানিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে অত্যন্ত সুনামের সাথে ইবতেদায়ী ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। অতপর তিনি পিতার অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী ঐশী গ্রন্থ আল্-কুরআন হিফ্য শুরু করেন এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম বালিয়া (মাদ্রাসা) হতে ১৯৬৫ ঈসায়ী সনে সুনামের সাথে হিফ্জুল কুরআন সমাপ্ত করে একই মাদ্রাসায় দরসিয়াতে অধ্যয়ন শুরু করে মাত্র ০৪ বছরকাল লেখাপড়া করার পর পারিবারিক সমস্যার কারণে এ মাদ্রাসা ত্যাগ করেন। তারপর নিজ থানা পূর্বধলার যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসায় ০৩ বছর (শরহে জামী ও শরহে বেকায়া) অধ্যয়ন করেন। অত:পর দূর্গাপুর থানাধীন চান্দেরনগর দারুল উলুম মাদ্রাসায় ০২ বছর (জালালাইন শরীফ ও মিশকাত শরীফ) অধ্যয়ন করে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে পুণরায় জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম বালিয়া হতে সর্বোচ্চ ডিগ্রী দাওরায়ে হাদীস অর্জন করেন।
এ দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে তিনি কুরআন, হাদীস, তাফসীর, ফিক্হ, ফারাইয প্রভৃতি বিষয়ে অসাধারণ পান্ডিত্য অর্জন করেন। তার শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন,- বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্যতম প্রধান আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা ফয়জুর রহমান (রহ.), হযরত মাওলানা দৌলত আলী (রহ.), হযরত মাওলানা লোকমান (রহ.), শায়েখে বালিয়া হযরত মাওলানা গিয়াস উদ্দীন (রহ.), শায়খুল হাদীস মাওলানা ইমদাদুল হক ও হযরত মাওলানা মুফতী মুসলিম উদ্দীন প্রমুখ। সুযোগ্য এ আলিমে দ্বীন ইল্মে যাহিরী শিক্ষা গ্রহণ করার পর ইল্মে বাতিনী চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। এ পর্যায়ে তিনি তাজকিয়া নফ্স তথা আত্মশুদ্ধির জন্য মহান সাধক, প্রতিথযশা হাদীস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন আহমদ গওহরপুরী (রহ.)’র নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং তাঁর ওফাতের পর শায়েখে বালিয়া আল্লামা গিয়াস উদ্দীন (রহ.) পীর সাহেবের খিদমতে হাজির হয়ে বাতিনী কামালিয়ত হাসিল করার জন্য মনোনিবেশ করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি শেরপুর অঞ্চলে আগমন করেন ১৯৭৫ ঈসায়ী সনে রমযান মাসে শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী খরমপুর জামে মসজিদে খতমে তারাবীহ্ নামায পড়ানোর জন্য। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুসুল্লীগণ তার সুললিত কন্ঠের তিলাওয়াত, বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান গরিমা ও চরিত্র মাধুযর্তা এবং কর্ম দক্ষতার প্রতি মুগ্ধ হয়ে তাকে শেরপুর শহরস্থ মুন্সিবাজার মৌজায় তেরাবাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেন। পরে তারই পরামর্শে এবং শেরপুরের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক ইচ্ছানুযায়ী তেরাবাজার মসজিদের পাশে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু জায়গা না থাকার দরুণ প্রাথমিকভাবে এই মসজিদের বারান্দায় ১৯৭৮ ঈসায়ী সনে তিনি হিফ্য বিভাগের মাধ্যমে ছাত্রদের র্দস দান শুরু করেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আশাতীতভাবে মাদ্রাসার ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাদ্রাসার নিজস্ব ঘরের প্রয়োজন দেখা দেয়। ইতোমধ্যেই একদিন প্রচন্ড ঝড়ে মসজিদ সংলগ্ন বাজারটি তছনছ করে ফেলে। এ অবস্থায় বড় হুজুর স্থানীয় গণ্যমান্য লোকদেরকে সঙ্গে নিয়ে তদানীন্তন আবাসিক প্রশাসক আবদুর রশিদ সাহেবের সহযোগিতায় বাজারটির আংশিক জায়গা (অর্পিত পরিত্যক্ত জমি) নিয়ে মাদ্রাসার জন্য একটি ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন। শক্তিশালী কার্যনির্বাহী পরিষদ, এলাকাবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং এই আলিমে দ্বীনের সততা, কর্মদক্ষতা, কঠোর সাধনা এবং আল্লাহর অশেষ রহমতের ফলে পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসাটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রী দাওরায়ে হাদীস ক্লাস পর্যন্ত উন্নীত হয়। এই ছোট্ট মাদ্রাসাটিই বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী জামিয়া সিদ্দীকিয়া (তেরাবাজার মাদ্রাসা) নামে পরিচিত এবং যেটি শেরপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করে গোটা শেরপুরবাসীর গৌরব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ প্রখ্যাত আলিমে দ্বীন গত ৪০ বছর যাবৎ অত্র জামিয়ার মুহ্তামিম পদে অধিষ্ঠিত থেকে পাঠদান থেকে শুরু করে মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্ঠা চালিয়ে গেছেন। বিশেষ করে অত্র অঞ্চলের অধিবাসীদের হিদায়াতের লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন ধর্মসভায় ওয়াজ নসিহত, বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে হিদায়েতি বক্তব্য, বাতিল বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম ও লেখনীর মাধ্যমে আমৃত্যু ইসলামের খিদমত করে গত ২১ মে রোজ শনিবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে আল্লাহর সান্নিধ্যে পাড়ি জমান (ইন্নালিল্লাহি……….রাজিউন)। মরহুমের শেরপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠের জানাযা নামাযে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা তথা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত স্মরণকালের সবচেয়ে বেশী পরিমাণ মুসুল্লীর ঢল দেখে সহজেই অনুমান করা যায় তিনি কতটা মানবহিতৈষী, দ্বীনের খেদমতদার ও আধ্যাত্মিক পুরুষ ছিলেন। আমরা তাঁর বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
বিস্তারিত: www.facebook.com/hafej.minhaz.1

হজ্বের বিধান পালনে নারীর স্বতন্ত্রঃ


মোঃ মিনহাজ উদ্দীন

নারী ও পুরুষ উভয় আল্লাহর বান্দা। তাই নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে পুরুষের  উপর যেমন হজ্ব পালন করা ফরজ, তদ্রুপ শর্ত সাপেক্ষে নারীর উপরেও হজ্ব পালন করা ফরজ। তবে হজ্বের বিভিন্ন আহকাম পালনের ক্ষেত্রে সঙ্গত কারণেই নারী ও পুরুষের মাঝে কিছু বিধানগত পার্থক্য রযেছে। এই প্যাজে সেটাই আমি তুলে ধরার চেস্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

হজ্বে ক্ষেত্রে নারীর স্বতন্ত্র বিধানঃ
(১) হজ্ব ফরজ হওয়ার শর্তঃ হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য মুসলিম হওয়া, বালেগ হওয়া, জ্ঞানবান হওয়া, হজ্বকালীন পারিবারিক খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যতীত হজ্বের সফরের যাবতীয় খরচ পরিমাণ অর্থ-সম্পদ থাকা ইত্যাদি শর্তের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।
* তবে হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য নারীর ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত শর্ত রয়েছে। আর তা হলো যদি নারীর বাড়ী থেকে মক্কার দূরত্ব ৪৮ মাইল বা তার বেশী হয়, তবে নারীর উপর হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য তার সাথে স্বামী বা কো একজন মুহাররাম পুরুষ থাকা জরুরী। হাদিস শরীফে এসেছে, “ রাসূল সা: বলেন, মুহাররাম পুরুষ ছাড়া কোন মহিলা সফর করবে না। আর মুহাররাম পুরুষ সাথে না থাকলে সে মহিলার কাছে কেউ প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল সা: আমি অমুক যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি, আর আমার স্ত্রী তো হজ্বে ইচ্ছা করেছে। রাসূল সা: তখন লোকটিকে বললেন, তুমিও তার সাথে হজ্বের জন্য বের হও”। ( বুখারী)
(২)  ইহরাম বাঁধাঃ হজ্বের প্রথম ফরজ হলো ইহরাম বাধা। এটি নামাযের তাকবিরে তাহরিমার তুল্য। পুরুষের ইহরাম বাাঁধার সাধারণ নিয়ম হলো- প্রথমে পবিত্র হয়ে সেলাইবিহীন কাপড় পরতে হবে। তারপর দু’রাকাত নাময আদায় করে হজ্ব বা ওমরার নিয়ত করে তালবিয়া পড়তে হবে। ইহরামের জন্য পবিত্র হওয়া, নামায পড়া, নিয়ত করা ও তালবিয়া পড়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান।
* তবে নারী যদি ঋতুবতী হয়, তাহলে সে গোসল করবে; কিন্তু নামাজ পড়বে না। বরং শুধু নিয়ত করে তালবিয়া পড়ে নেবে।
*পুরুষের ইহরামের সাথে নারীর ইহরামের আরেকটি পার্থক্য হলো- পুরুষেরা সেলাই বিহীন কাপড় পড়বে, কিন্তু মহিলারা সেলাইযুক্ত কাপড় পড়ব। তথা তারা পর্দার জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক যেমন- বোরকা নেকাব ইত্যাদি পড়বে। কারণ সেলাইবিহীন কাপড় দ্বারা তাদের পর্দা যথার্থভাবে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

Poem

 
কবিতা:

 
 
দীন ইমানের ভিত্তি মুলে হানছে আঘাত নিত্ত দিন,
মত্ত লুভি আজকে কেন? সব ভুলে তুই সল্পহীন।
কান পেতে শুন! টগবগে খুন করছে যেন আরতনাদ,
শংকা ভুলে ভাঙ্গগ সমুলে ঐ পাপিদের ব্যর্থ সাধ।
গেন পাপি ঐ নাস্তিকেরা বাড় বেড়েছে খুব এবার,
সব বাতিলের ভিত নাড়ীয়ে হানরে আঘাত দূর্নিবার।
কাপছে দেখ মুসলমানের আর্তনাদের তপ্ত ঢেঊ,
বলছে যেন নওযামানার বদলা নিতে জাগরে কেউ।
বাংলাদেশের সচ্ছ বায়ু হচ্ছে ভারি নিত্ত আজ,
জেল-জুলুম আর নিরবিচারে আজকে আমার চিত্ত লাজ।
আজকে কেন? বীর বাঙ্গালীর রক্তে এ দেশ হচ্ছে লাল,
মারল কেন শাপলা চকে আলেম সাধক নিরভেজাল।
মুসলমানের রাস্ট্রে কেন সত্য বলায় হচ্ছে জেল,
হকের আওয়াজ তুল্লে কেহ উঠছে বুকে শক্তি শেল।
ওঠছে ফেপে ছুটছে কেপে তপ্ত রুধির খিপ্ত ঢেউ,
বলব কি আর বলার নেই আর বললে স্রুতে পড়বে সেও।
ঐ চেয়ে দেখ বিশ্ব বিবেক কুন্দিকে আজ নিচ্ছে সায়,
বুদ্ধি পেচে শিয়াল গুলু আজকে তুদের পক্ষে নাই।
 more

সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬

রোজা

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের রুজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা
হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের উপর। যাতে তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পার।

হজ্জ ও ওমরাহ আদায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য :

cilck 

মুসলিম জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ মহাসম্মেলন হলো হজ্জ।  পবিত্র হজ্জ ইসলামের পঞ্চ বেনা বা ভিত্তির অন্যতম। এ পুণ্যময় হজ্জ মুসলিম জাতির সামাজিক, রাজনৈতিক, আধ্যাতিক ঐক্য এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ সৃষ্টির প্রকৃষ্ট নিদর্শন। যাদের আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ আছে তাদের জন্য জীবনে অন্ততঃ একবার আল্লাহর ঘর বাইতুল্লাহর হজ্জ আদায় করা ফরযে আইন। হজ্জের আভিধানিক অর্থ হজ্জ অর্থ সংকল্প বা ইচ্ছা করা। সাক্ষাৎ করা
– সাধারণভাবে কোন কিছুর প্রতি ইচ্ছা বা দৃষ্টি নিক্ষেপ করা। ইত্যাদি
পারিভাষিক অর্থ
–    শরহে বেকায়া গ্রন্থকারের মতে- নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থান যিয়ারত করার নামই হজ্জ।
–    কামূসুল ফিকহী গ্রন্থপ্রণেতার মতে- মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কার্যাবলীর মাধ্যমে সম্মানিত বায়তুল্লাহ যিয়ারতের সংকল্প করার নামই হজ্জ।
–    ইমাম রাগেব ইস্পাহানী রহ.-এর মতে- সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কাবা ঘরের ইচ্ছা পোষণ করাকে হজ্জ বলা হয়।
–    ঐধুু সবধহং সধশরহম ঃযব ঢ়রষমৎরসধমব ঃড় সধপপধ.
মোটকথা আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের জন্য জিলহজ্জ মাসের ৮ই জিলহজ্জ থেকে ১২ই জিলহজ্জ তারিখ পর্যন্ত পবিত্র কাবা ঘর তাওয়াফ,  সাফা মারাওয়া সাঈ, আরাফাহ, মিনা মোজদালিফায় অবস্থান, শয়তানকে পাথর মারাসহ নির্ধারিত কাজসমুহ সম্পাদন করাকে হজ্জ বলে।
পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য প্রথম যে ঘর নির্মিত হয় তা বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত। কাবা ঘর পবিত্র এবং সারা জাহানের জন্য পথ প্রদর্শক। এতে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমুহ, যার একটি হচ্ছে মাকামে ইবরাহীম। কাবা ঘরে যে প্রবেশ করেছে সে নিরাপদ। [সুরা আল ইমরান -৯৭]  মানবজাতির মধ্যে যাদের সামর্থ আছে তাদের জন্য অবশ্যই কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা। কিন্তু সামর্থ থাকা সত্বেও যারা তা আদায় করে না, তারা জেনে রাখুক যে, আল্লাহ তামাম জগতের প্রতিপালক, তিনি কারো কাছে মুখাপেক্ষী নন। অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে, তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্জ ও ওমরাহ পূর্ণ করো। বুখারি শরীফে প্রিয় নবী সা. এরশাদ করেছেন, হজ্জ ফরয হওয়া সত্বেও তা আদায় না করে যে মৃত্যু বরণ করে, সে মুসলমান হয়ে মরল কিনা সে ব্যাপারে আমি সন্ধিহান। অপর এক হাদীসে আছে তার মৃত্যু ইহুদি নাসারাদের মৃত্যুর  মতই হতে পারে।
রাসূল সা. আরো ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জের ইচ্ছা করবে, সে যেন তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়।
উল্লেখিত আয়াতে কারীমা এবং হাদীস শরীফে হজ্জ সম্পর্কে মহান আল্লাহর রাসূল যা বলেছেন, জ্ঞানীদের জন্য হজ্জের গুরুত্ব অনুধাবনে তা-ই যথেষ্ট নয় কি?
দুঃখজনক যে, আমাদের দেশে অনেক সম্পদশালী মুসলমান আছেন তাদের উপর বহু পূর্বেই হজ্জ ফরজ হয়েছে। তারা বিভিন্ন অজুহাতে যেমন ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদী, বাড়ি-ঘর সম্পন্ন করা, ব্যবসা-বাণিজ্য গুছিয়ে নেয়া ইত্যাদি দেখিয়ে হজ্জ আদায়ে গড়িমসি করে থাকেন। অনেক আবার বৃদ্ধ বয়সে হজ্জ করার আশায় থাকেন। অনেকেই বলেন হজ্জ ফরজ হয়েছে কিন্তু বয়সতো হয়নি। চুল দাড়ি পাক ধরুক তারপর হজ্জ করতে যাব। অনেকেই বলেন বাবা-মার আগে হজ্জ আদায় হয়না। দুর্ভাগ্য যে, তাদের অনেকেই এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আবার অনেকেই আর্থিক দৈন্যতা ও শারীরিক অক্ষমতা দেখা দেয়। ফলে তারা হজ্জ আদায়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত ও নেয়ামত থেকে মাহরুম হয়ে যায়। তাই সামর্থবান মুসলমান ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান, সকল প্রকার চিন্তাভাবনা ও গড়িমসি পরিহার করে যাদের উপর হজ্জ ফরয হয়েছে তারা বিলম্ব না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হজ্জ আদায় করুন। কারণ কার মৃত্যু কখন এসে যায় বলা যায়না। অনেকেই হয়ত ভাবেন আমি হজ্জে গেলে সংসার কিভাবে চলবে। এটা এক ধরনের গুমরাহী। আপনার অনুপস্থিতিতেও সংসার চলবে, কারণ রিযিকের মালিক আল্লাহ। এক সময় আপনার সংসার সমাজ সবি চলবে আপনিই থাকবেন না। যারা হজ্জ করতে যায় তারা আল্লাহ তাআলার খাস মেহমান আর আল্লাহর মেহমানের সংসার আল্লাহ তাআলা দেখাসোনার দায়িত্ব নিবেন। আর যে ব্যক্তি হজ্জ আদায় করবে তার সম্পদ কখনও কমবে না; বরং আরো বরকতময় হবে।

হজ্জ ও ওমরার ফযীলত



হজ্জ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। কারণ, হজ্জের মধ্যে যেমন সম্পদের প্রয়োজন তেমনি শক্তিরও প্রয়োজন। হজ্জ একটি আর্থিক এবং শারীরিক ইবাদত। মাকবুল হজ্জ আদায়কারীর পুরস্কার জান্নাত।
* তিরমিযি শরীফের হাদীসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমরা সামর্থ হওয়ার সাথে সাথে হজ্জ ও ওমরাহ আদায় করে নাও। কেননা স্বর্ণকার ও কর্মকার যেমন স্বর্ণ ও রৌপ্য ও লৌহকে পুড়িয়ে-পিটিয়ে ময়লা ও ভেজাল থেকে মুক্ত করেন, ঠিক তেমনি হজ্জ ও ওমরাহ মানুষের দারিদ্রতা ও গুনাহসমুহকে বিদূরিত করে দেয়।
* সুরা হজ্বের ২৭ নং আয়াতে উল্লেখ আছে- লোকদের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা করে দিন, তারা পদব্রজে এবং সর্বপ্রকার দুর্বল উটনীতে চড়ে দূর-দূরান্ত থেকে (হজ্জের উদ্দেশ্যে) আপনার কাছে এসে হাজির হয়।
* আল্লাহর জন্য হজ্জ আদায়কারী সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ। [বুখারি ও মুসলিম শরীফ]
* হজ্জ ওমরাহ আদায়কারীর গুনাহ ও দারিদ্রতা এমনভাবে দুরিভুত হয়, লোহা ও স্বর্ণের ময়লা যেমনভাবে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হজ্জযাত্রীগণ আল্লাহর মেহমান, তাদের সকল দুআ ও প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করেন। [ইবনে মাজাহ]
* হজ্জ আদায়কারী কখনো গরীব হয়না। [ত্বাবরানী]
* হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সা. এরশাদ করেছেন, “হে মানব সমাজ! আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরজ করেছেন; সুতরাং তোমরা হজ্জব্রত পালন কর।
পবিত্র কুরআন শরীফের আটটি সূরার মোট পায়ত্রিশখানা আয়াতে হজ্জ ও ওমরা সম্পর্কীয় বর্ণনা এসেছে।
যার উপর হজ্জ ফরজ এবং যার উপর ফরজ নয়
– মুসলমান হওয়া: কেননা অমুসলিমদের উপর হজ্জ ফরজ নয়।
–    স্বাধীন হওয়া: দাস- দাসিদের উপর হজ্জ ফরজ নয়। কেননা তারা স্বীয় ইচ্ছার প্রতি সামর্থবান নয়।
–    বালেগ হওয়া: কেননা নাবালেগ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর হজ্জ ফরয নয়।
–    সুস্থ হওয়া: প্রতিবন্ধী, দুর্বল, যানবাহনে আরোহণে অক্ষম, মস্তিস্ক বিকৃতদের ব্যক্তির ওপর হজ্জ ফরয নয়।
–    দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন হওয়া: কেননা অন্ধ ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয নয়।
–    পাথেয় থাকা: হজ্জকারীর সম্পদের পরিমাণ ততটুকু হতে হবে, যাতে আসা যাওয়ার সমস্ত খরচের পর বাড়ি ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবার, পরিজনের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে পারে।
–    মহিলার সাথে স্বামী বা মাহরাম থাকা: যদি হজকারীনী তার বাড়ি থেকে কাবা ঘরের দূরত্ব ৪৮ মাইল বা এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে তার সাথে স্বামী বা মুহাররম (বিবাহবন্ধন হারাম এমন পুরুষ) থাকতে হবে।
–    যানবাহনের সুবিধা থাকা: কেননা যানবাহনের সুবিধা না থাকলে হজ্জ ফরয নয়।
–    জ্ঞানবান হওয়া: কেননা পাগলের উপর হজ্জ ফরজ নয়
–    কয়েদি না হওয়া: কারাবন্দির ওপর হজ্জ ফরয নয়। এমনকি তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি প্রেরণ করাও জরুরী নয়।
–    যদি কারও নিকট এতটুকু পাথেয় থাকে যার দ্বারা মক্কা শরীফের যাতায়াতের ব্যয় নির্বাহ হতে পারে, কিন্তু মদীনা শরীফ গমনের মত টাকা পয়সা না থাকে তবে তার উপরও হজ্জ ফরজ।


হজ্জ  ফরজ হওয়ার শর্তাবলী

১.    মুসলমান হওয়া
২.    শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়া এবং আর্থিক সামর্থ থাকা।
৩.    বুদ্ধিমান ও বালেগ তথা প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়া।

হজ্জের প্রকার

হজ্জ তিন প্রকার যথাঃ

 (১) তামাত্তো, (২) ক্বিরান, (৩) ইফরাদ।
১. হজ্জে তামাত্তো : আভিধানিক অর্থ-
–    উপভোগ করা, উপস্থিত ফায়দা লাভ করা, উপকার লাভ করা।
পারিভাষিক অর্থ-
* শরহে বেকায়া গ্রন্থকারের মতে- তামাত্তো হলো, হজ্জ পালনেচ্ছুক ব্যক্তি হজ্জের মাসে প্রথমে মীকাত হতে ওমরা পালনের জন্য ইহরাম বাধবে, তারপর তাওয়াফ করবে, সাফা- মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সায়ী করবে, হলক অথবা কসর করবে।
৮ই জিলহজ্জ তারিখে মিনা যাওয়ার প্রাক্কালে হজ্জের নিয়তে পুনরায় ইহরাম বাঁধবে। এই জন্য এই নিয়মে ইহরাম দীর্ঘায়িত হয় না। হাজী সাহেবানদের জন্য এই নিয়ম সহজ ও অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক। তাই বাংলাদেশের অধিকাংশ হাজী সাহেবগণ তামাত্তো হজ্জ করে থাকেন। তামাত্তো হজ্জকারীদের সংখ্যা সর্বাধিক হয়ে থাকে। মহিলাদের জন্য তামাত্তো হজ্জই বেশি সমীচীন। তামাত্তো হজ্জের জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। তামাত্তো হজ্জে প্রথমে ওমরার নিয়ত করতে হবে।
হজ্জের নিয়ত
ইয়া আল্লাহ! আমি তামাত্তু হজ্জের নিয়ত করছি, আমার জন্য তা সহজ করে দিন ও কবুল করুন।
ওমরাহর নিয়ত
ইয়া আল্লাহ! আমি তামাত্তো হজ্জ আদায়ের নিমিত্তে প্রথমে ওমরাহ আদায়ের নিয়ত করছি,  আমার জন্য তা সহজ করে দিন ও কবুল করুন। এরপর ৮ জিলহজ্জ মক্কা মোকাররমা থেকে ইহরাম বেধে হজ্জের নিয়ত করতে হবে।

(২) হজ্জে ক্বিরান : আভিধানিক অর্থ-
– মিলানো, সংযুক্ত করা
–    দুটি বস্তুকে একত্রিত করা, সাথী হওয়া।

পারিভাষিক অর্থ-
ওমরাহ ও হজ্জ এক সাথে আদায়ের জন্য ইহরাম বেঁধে প্রথমে ওমরাহ পালন করে ইহরাম না খুলে একই ইহরামে হজ্জ সমাপন করাকে “হজ্জে ক্বিরান ” বলে।
এ নিয়মে ওমরার তাওয়াফ এবং সায়ী করে হজ্জের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যারা হজ্জের কাছাকাছি সময়ে মক্কা শরীফে আসবে তাদের জন্য ক্বিরান হজ্জের নিয়ত করা উত্তম এবং সওয়াবও অধিক। ক্বিরান হজ্জকারীদের সংখ্যা কম হয়ে থাকে। ক্বিরান হজ্জের জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। ক্বিরান হজ্জের জন্য ওমরাহ ও হজ্জের নিয়ত এক সাথে করতে হবে।

(৩) হজ্জে ইফরাদ :
আভিধানিক অর্থ-
–    একাকি, একক, বিজোড়
–    ঝড়ষরঃধৎু, টহরঃ, ঁহরঃবফ, অষড়হ

পারিভাষিক অর্থ-
শুধুমাত্র ইহরাম বেঁধে হজ্জ সমাপন করাকে “হজ্জে ইফরাদ” বলে। এতে কোন ওমরাহ করতে হয় না। ইফরাদ হজ্জকারীদের সংখ্যা কম হয়ে থাকে। ইফরাদ হজ্জের জন্য কুরবানি ওয়াজিব নয়, তবে করা মুস্তাহাব। ইফরাদ হজ্জের জন্য শুধুমাত্র হজ্জের নিয়ত করতে হবে।
হজ্জের ফরজ তিনটি
১- ইহরাম বাঁধা ,
২- আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।
৩- তাওয়াফে যিয়ারত করা।
(১) ইহরাম বাঁধা: গুনাহ বর্জন, নেক আমলের প্রতিশ্র“তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজ্জব্রত পালনের নিয়ত এবং তালবিয়া পাঠের নামই ইহরাম।
(২) আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা: ৯ই জিলহজ্জ দ্বিপ্রহর থেকে ঐদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে কোন সময় এক মূহুর্তের জন্য হলেও আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।
(৩) তাওয়াফে যিয়ারত: ১০ জিলহজ্জের ভোর থেকে ১২ই জিলহজ্জের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাইতুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করা।

হজ্জের ওয়াজিব সমুহ
হজ্জের ওয়াজিব ৬টি যথা-
১- ৯ই জিলহজ্জ দিবাগত রাত্রে আরাফার ময়দান হতে মিনায় ফিরার পথে মুজদালিফায় রাত্রি যাপন এবং সেখানে মাগরিব ও এশার নামায একই সাথে আদায় করা।
২- সাফা-মারওয়া পাহাড় সাঈ করা।
৩-    ১০, ১১, ১২ইং জিলহজ্জ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা।
৪-    ক্বেরান ও তামাত্তো হাজীদের জন্য কুরবানি করা।
৫-    কুরবানির পরে মাথা মুন্ডানো বা চুল ছোট করা।
৬-    মিকাতের বাইরে অবস্থানকারীদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা।
হজ্জের সুন্নত সমুহ
১- মীকাতের বাইরে থেকে আগমনকারীদের জন্য তাওয়াফে কুদুম করা,
২-    তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদ (কাল পাথর) থেকে শুরু করা।
৩-    যে তাওয়াফের সাঈ আছে সেই তাওয়াফে রমল এবং ইযতিবা করা।
৪-    সাফা-মারাওয়ার মধ্যে যে দুটো সবুজ বাতি আছে তার মধ্যবর্তী স্থান দৌড়ে অতিক্রম করা। তবে মহিলাদের জন্য প্রযোয্য নয়
৫-    মক্কায় ৭ই জিলহজ্জ তারিখে আরাফাতে ৯ই জিলহজ্জ তারিখে এবং মিনায় ১২ই জিলহজ্জ তারিখে ইমামের খুতবাহ শোনা।
৬-    ৮ই জিলহজ্জ তারিখে দিবাগত রাত মিনায় কাটানো।
৭-    সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পূর্বে মুজদালিফা থেকে মিনায় রওয়ানা হওয়া।
৮-    ১০ই জিলহজ্জ এবং ১১ই জিলহজ্জ তারিখের রাত এবং ১২ই জিলহজ্জ তারিখেও মিনায় থাকলে ১৩ই জিলহজ্জ তারিখ দিবাগত রাতও সেখানে কাটানো।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
(১) খোশবু ব্যবহার করা (২) সেলাই করা কাপড় পরিধান করা (স্ত্রী লোক সেলাই করা কাপড় পড়তে পারবে) (৩) চুল পশম বা নখ কাটা বা উপড়ে ফেলা। (৪) চুল দাড়িতে খেজাব লাগানো। (৫) বৃক্ষ, ঘাস, গাছপালা কাটা বা ছেঁড়া। (৬) সুগন্ধি টুথপেষ্ট ব্যবহার করা। (৭) মাথা ও মুখ ঢাকা (৮) পশু-পাখি শিকার করা বা সাহায্য করা। (৯) কীটপতঙ্গ, মশা, মাছি, উকুন বা যে কোন প্রাণী হত্যা করা। (১০) সর্বপ্রকার যৌনচারে জড়িয়ে পড়া। (১১) ঝগড়া বিবাদ করা (১২) কোন গুনাহর কাজ করা। (১৩) মোজা পরিধান করা। (১৪) পুরুষের মুখমন্ডল ও মাথা ঢেকে রাখা। (১৫) জাফরান মিশ্রিত কোন কাপড় পরিধান করা। (১৬) পাগড়ী পরিধান করা।
পুরুষদের জন্য ইহরাম অবস্থায় এমন জুতা ব্যবহার করা, যার দ্বারা পায়ের পাতার মাজখানের গিরাটি ঢেকে  যায়। তা পূর্ণ ১ দিন বা রাত্রি পরিধান করলে কুরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে। যারা প্রথমে মদীনা শরীফে যাবেন তাদের মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফে আসার পথে ইহরাম বাধলেই চলবে, কিন্তু মক্কায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাধার পর মদীনায় যাওয়ার ইচ্ছা হলে ইহরাম খুলা যাবেনা। যদি খুলে তবে দম ওয়াজিব হবে।


হজ্জের তালবিয়া

উচ্চারণ : লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হাম্দা ওয়ান্ নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা-শারীকা লাক।
অর্থ : আমি হাযির হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির। আপনার কোন শরীক নেয়, আমি হাযির। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও নিয়ামত আপনারই, আর সকল সাম্রাজ্য আপনারই, আপনার কোন শরীক নেই।

দুআ কবুলের স্থানসমুহ

(১) মাতাফ তথা তাওয়াফের জায়গায়, (২) মুলতাজাম বা কাবা ঘরের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান, (৩) মীযাবে রহমত বা কাবা শরীফের ছাদের পানি যে স্থান দিয়া নিচে পরে সে স্থান (হাতিমের মধ্যে), (৪) যমযম কুয়ার কাছে, (৫) মাকামে ইবরাহীম অর্থাৎ হযরত ইবরাহীম আ. এর পদচিহৃ যেখানে সংরক্ষিত আছে তার পিছনে, (৬) সাফা-মারওয়া পাহাড়ের উপর, (৭) রোকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে, (৮) মিনার ময়দানে (৯) আরাফাতের ময়দানে, (১০) জাবালে রহমতে, (১১) মুজদালিফার ময়দানে, (১২) জাবালে নূর যেখানে পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছিল, (১৩) জাবালে সওর যেখানে প্রিয় নবী সা. হযরত আবু বকর রা.কে নিয়ে অবস্থান করেছিলেন, (১৪) জাবালে ওহুদ যেখানে ওহুদের যুদ্ধ হয়েছিল এবং প্রিয় নবীজি সা. এর দন্ত মোবারক শহীদ হয়েছিল, (১৫) দারে আরকাম যেখানে হযরত ওমর রা. ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, (১৬) জান্নাতুল বাকী ও জান্নাতুল মোয়াল্লা যে কবরস্থানদ্বয়ে প্রিয় নবীজির সাহাবায়ে কেরাম, আওলাদে পাক, আযওয়াজে মুতাহ্হারা , শুহাদায়ে কেরাম শুয়ে আছেন ও অন্যান্য পবিত্র স্থান সমুহ। সবিশেষে দুআ করি আল্লাহ যেন আমাদেরকে হজ্জে মাবরুর দান করেন। আমীন।

লেখক : প্রাবন্ধিক, তরুণ আলেম, 
www.facebook.com/hafej.minhaz.1

রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬

ভুল মাসআলা

হাঁটুর কাপড় সরে গেলে ওযু ভেঙ্গে যাবেঃ

এই ভুল মাসআলাও কোথাও কোথাও প্রচলিত আছে।
এটা ঠিক যে, হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ঢেকে রাখা জরুরি। এদিকেও খেয়াল রাখা উচিত যে, পা ধোয়ার সময় বা অন্য কোন সময় যেন হাঁটু থেকে কাপড় সরে না যায়, কিন্তু কোন সময় কাপড় সরে গেলে ওযু ভেঙ্গে যাবে এ কথা ঠিক নয়। কোন নির্ভরযোগ্য কিতাব যেমন- বেহেশতি যেওর ইত্যাদি থেকে ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ ভালোভাবে মুখস্থ করে নেওয়া উচিত।
বিস্তারিত